
আজ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন। এটি কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জনগণের প্রতি দেওয়া একটি নৈতিক অঙ্গীকার। শপথ মানে দায়িত্বের ভার কাঁধে তুলে নেওয়া—জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি।
একজন এমপি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নন, তিনি তার পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধি। নির্বাচনের আগে মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু শপথের পর তিনি সবার—ভোটদাতা ও অ-ভোটদাতা সবার অধিকার রক্ষা করাই তার দায়িত্ব।
সততা ও জবাবদিহিতাই প্রথম শর্ত
একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের প্রথম শর্ত হওয়া উচিত সততা। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, কমিশন বাণিজ্য বা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ—এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখা কেবল আইনি নয়, নৈতিক দায়িত্বও। ক্ষমতা কখনো ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম হতে পারে না। জনগণের ট্যাক্সের অর্থ জনগণের উন্নয়নেই ব্যয় হতে হবে।
সংসদীয় দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততা
জাতীয় সংসদ-এ নিয়মিত উপস্থিত থাকা, আইন প্রণয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ, এলাকার সমস্যা তুলে ধরা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের যথাযথ তদারকি করা—এসবই একজন এমপির মৌলিক দায়িত্ব।
জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাদের অভিযোগ-পরামর্শ শোনা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়া একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধির বৈশিষ্ট্য।
ভাষা, আচরণ ও নেতৃত্বের উদাহরণ
একজন এমপির কথাবার্তা, সিদ্ধান্ত ও জীবনযাপন সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। তাই অহংকার নয়—বিনয়; প্রতিহিংসা নয়—সহনশীলতা; বিভাজন নয়—ঐক্যের বার্তা হওয়া উচিত তার নেতৃত্বের ভিত্তি।
শপথের প্রকৃত মূল্য তখনই প্রমাণিত হবে, যখন ক্ষমতার চেয়ে সেবাই হবে প্রধান লক্ষ্য। ইতিহাসে সম্মানিত হতে হলে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত অবস্থানই একজন এমপির সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে।
_✍️ওমর ফারুক __