
ঝুঁকিপূর্ণ ২০১ কেন্দ্র, মোতায়েন সেনাবাহিনী-বিজিবি-র্যাব-পুলিশ; প্রশাসনের দাবি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
✍️ হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের পর অবশেষে ভোটের দুয়ারে ঠাকুরগাঁও-৩ (রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসন। রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রার্থী ও ভোটার—দু’পক্ষই এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছেন প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা। ব্যালট পেপার, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সরঞ্জাম কঠোর নিরাপত্তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন—এখন কেবল ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অপেক্ষা।
এ আসনে জামায়াত, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে হিসাব-নিকাশ ও বিশ্লেষণ।
রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্র তিনদিন ধরে সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকছেন
৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
সেনাবাহিনীর ১১ প্লাটুন
বিজিবির ৩২ প্লাটুন
র্যাবের ৩ প্লাটুন
পুলিশের প্রায় ১,২৫০ সদস্য
৬ হাজারেরও বেশি আনসার সদস্য
প্রশাসনের ভাষ্য, নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা যায়।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন,
“ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। জনগণের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
ভোটের আগের রাতে পুরো এলাকায় বইছে উৎসব ও উৎকণ্ঠার মিশ্র আবহ। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর সাধারণ ভোটাররা অপেক্ষা করছেন ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানান দিতে। এখন দেখার পালা—কার ভাগ্যে জোটে বিজয়ের হাসি।