
নির্বাচন এলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে প্রার্থী, দল ও প্রতিশ্রুতি। তবে সচেতন মহল মনে করেন, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভোটারের নিয়ত ও মানসিকতা। কারণ ব্যালটে দেওয়া একটি ভোট শুধু সংখ্যা নয়, এর পেছনে থাকে ব্যক্তির চিন্তা, প্রত্যাশা ও উদ্দেশ্য।
অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত লাভের হিসাব করেন। কেউ মনে করেন, নির্দিষ্ট প্রার্থী বিজয়ী হলে তিনি কোনো পদ পাবেন, প্রভাবশালী হবেন। কারও প্রত্যাশা থাকে, প্রার্থী জিতলে সন্তানের চাকরি হবে বা পারিবারিক সুবিধা মিলবে। আবার কেউ কেউ ভবিষ্যতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় ভোট দেন।
অন্যদিকে উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো, কিছু ভোটারের নিয়ত আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। তারা মনে করেন, নির্দিষ্ট প্রার্থী ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি সহজ হবে, দুর্নীতির সুযোগ বাড়বে, দুর্বল মানুষের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন মানসিকতাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে এবং সমাজে অন্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
তবে এর বিপরীতে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্রও আছে। অনেক ভোটার আছেন, যারা ব্যক্তিগত লাভ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেন। তাদের নিয়ত থাকে, প্রার্থী বিজয়ী হলে তিনি ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রতিটি ভোটারের মনমানসিকতা আলাদা হলেও সব নিয়তের ফল এক নয়। স্বার্থনির্ভর ভোট সমাজে বৈষম্য ও দুর্নীতি বাড়ায়, আর ন্যায় ও জনকল্যাণের নিয়তে দেওয়া ভোট একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট একটি আমানত। তাই ব্যালটে সিল দেওয়ার আগে ভোটারের নিজের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত,এই ভোট আমি দিচ্ছি ব্যক্তিগত স্বার্থে, নাকি দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য। এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
_✍️ওমর ফারুক__