1. admin@thedailyajkal.com : TARIP :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নান্দাইলে পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি দেওয়া হলো না ২ ছাত্রীর! গণমাধ্যম যতবেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত বেশি সুদৃঢ় হবে- মির্জা ফখরুল কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল বজ্রপাত কেড়ে নিল চার সন্তানের জনকের প্রাণ, শোকে স্তব্ধ রাণীশংকৈলের জওগাঁও গ্রাম ঠাকুরগাঁওয়ে রহস্যজনকভাবে একই স্কুলের ৪ ছাত্রী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় চার পরিবার ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: বিকল্প পথে চলাচল, দুর্ঘটনার শঙ্কায় হাজারো মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে যাদুরাণী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘদিনের মাদককারবারি মামা-ভাগিনা ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কুরুচির বিরুদ্ধে রাণীশংকৈলে যুবদলের প্রতিবাদ, বিক্ষোভমিছিল ও সমাবেশ হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েও ব্রাজিল পারফরম্যান্সে রয়ে গেল প্রশ্ন

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়ী হওয়ার পরও কি আলাদা করে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” হিসেবে শপথ নেওয়া দরকার?

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৪১ বার পঠিত

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক পদ ও তাদের শপথের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি ইত্যাদির শপথের ভাষা নির্ধারিত আছে। সেখানে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামে কোনো পৃথক সাংবিধানিক পদ বা সংস্থা উল্লেখ নেই। সুতরাং বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরে এমন কোনো পদে শপথ পড়ানোর সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না।

সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান রক্ষা ও আইন প্রণয়নের শপথ নেন। সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতাও জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। অর্থাৎ, তারা ইতিমধ্যে যে শপথ নিয়েছেন, তার ভেতরেই সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত। আলাদা করে “সংস্কার পরিষদ সদস্য” হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান না থাকলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

গণভোটে যদি “হ্যাঁ” জয়ী হয়ে থাকে, তবে সেটি একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক ম্যান্ডেট। কিন্তু সেই ম্যান্ডেটকে কার্যকর রূপ দিতে হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে। গণভোটের ফলাফল আইনগত কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত না হলে তা সরাসরি নতুন কোনো পদ সৃষ্টি বা শপথ প্রক্রিয়া চালু করতে পারে না। আগে সংসদে প্রয়োজনীয় সংশোধনী গৃহীত হতে হবে, তারপর সেই সংশোধনের ভিত্তিতে নতুন কোনো পরিষদ গঠন ও শপথের বিধান যুক্ত করা সম্ভব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এখতিয়ারও সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত। যদি সংবিধান বা প্রাসঙ্গিক আইনে তাঁকে এ ধরনের শপথ পড়ানোর ক্ষমতা না দেওয়া থাকে, তবে তিনি তা করতে পারেন না। আইনের শাসনের মূল নীতি হলো, যা স্পষ্টভাবে অনুমোদিত নয়, তা প্রয়োগ করা যায় না।

গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা ঠিক নয়; তবে সেই রায় বাস্তবায়নের পথ অবশ্যই সাংবিধানিক হতে হবে। আগে জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে সংশোধনী পাস করে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” এর আইনি ভিত্তি তৈরি করতে হবে। তারপর শপথ ও কাঠামো নির্ধারণ করা যাবে। অন্যথায় পুরো প্রক্রিয়া আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

আমি মনে করি,গণভোটের রায় দেশের মানুষের পক্ষে সংবিধানে সংস্কার আনার একটি শক্তিশালী নৈতিক ম্যান্ডেট জারি করেছে। তা বাস্তবায়ন করতে হলে পারস্পরিক সংলাপ, আইনি প্রক্রিয়াএবং সাংবিধানিক নিয়ম মেনে সংশোধনী প্রণয়ন করা উচিত।এই পন্থাই দেশকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সংস্কার অভিমুখে এগোতে সাহায্য করবে।অহেতুক তর্ক বিতর্ক করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।

মো.ওমর ফারুক একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজসচেতন লেখক। তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক আজকাল
Theme Customized By Shakil IT Park