
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাসি–খুশির মুহূর্ত। কিন্তু হাজার হাজার প্রবাসীর কাছে ঈদের দিনটি অনেক সময় নীরব কষ্টের আরেকটি নাম। পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে, ভিন্ন দেশে কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেই তাদের কাটাতে হয় ঈদের দিন।
যখন দেশে ঈদের সকাল শুরু হয় নতুন পোশাক, সুগন্ধি সেমাই আর পরিবারের সবার হাসিমুখে, তখন প্রবাসীরা অনেকেই ঘুম ভাঙান ছোট একটি রুমে বা শ্রমিক ক্যাম্পে। নামাজ শেষে ফোনের স্ক্রিনে পরিবারের মুখ দেখে একটু হাসেন, আবার সেই ফোনেই লুকিয়ে রাখেন বুকের ভেতরের না বলা কষ্ট।
ঈদের দিনেও অনেক প্রবাসীকে কাজে বের হতে হয়। কারও দায়িত্ব শহর পরিষ্কার রাখা, কেউ নির্মাণকাজে ব্যস্ত, আবার কেউ দোকান বা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। নিজেদের আনন্দকে পাশে রেখে তারা দায়িত্ব পালন করেন, কারণ তাদের পরিশ্রমের ওপরই নির্ভর করে দেশে থাকা পরিবারগুলোর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য।
প্রবাসীদের কাছে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ভিন্ন। নতুন কাপড়ের আনন্দের চেয়ে পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি মুহূর্ত কাটানোর আকাঙ্ক্ষাই তাদের কাছে বড় হয়ে ওঠে। অনেকেই ঈদের দিন চুপচাপ বসে ভাবেন—কবে আবার পরিবারের সঙ্গে একসাথে ঈদের নামাজ পড়বেন, কবে সন্তানের হাত ধরে ঈদের মেলায় যাবেন।
তবুও সব কষ্টের মাঝেও প্রবাসীরা আশায় বুক বাঁধেন। পরিবারকে ভালো রাখতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে আর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতেই তারা নিজের অনুভূতিগুলোকে শক্ত করে ধরে রাখেন।
প্রবাসে পরিবারহীন ঈদ যেন আনন্দ আর বেদনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ—বাইরে হাসি, ভেতরে গভীর নীরবতা। তবুও এই নীরব ত্যাগই গড়ে তোলে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন এবং দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত।
মো.ওমর ফারুক একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজসচেতন লেখক। তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।