1. admin@thedailyajkal.com : TARIP :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নান্দাইলে পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে এইচএসসি দেওয়া হলো না ২ ছাত্রীর! গণমাধ্যম যতবেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত বেশি সুদৃঢ় হবে- মির্জা ফখরুল কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল বজ্রপাত কেড়ে নিল চার সন্তানের জনকের প্রাণ, শোকে স্তব্ধ রাণীশংকৈলের জওগাঁও গ্রাম ঠাকুরগাঁওয়ে রহস্যজনকভাবে একই স্কুলের ৪ ছাত্রী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় চার পরিবার ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: বিকল্প পথে চলাচল, দুর্ঘটনার শঙ্কায় হাজারো মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে যাদুরাণী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘদিনের মাদককারবারি মামা-ভাগিনা ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কুরুচির বিরুদ্ধে রাণীশংকৈলে যুবদলের প্রতিবাদ, বিক্ষোভমিছিল ও সমাবেশ হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েও ব্রাজিল পারফরম্যান্সে রয়ে গেল প্রশ্ন

মতের অমিল মানেই শত্রুতা নয়

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩৫ বার পঠিত

আমাদের সমাজে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কারও সঙ্গে মতের অমিল হলেই তাকে খারাপ মানুষ মনে করা, কিংবা তাকে অন্য দলের লোক বলে দাগিয়ে দেওয়া। যেন ভিন্ন মত মানেই ভিন্ন শিবির, আর ভিন্ন শিবির মানেই প্রতিপক্ষ। এই মানসিকতা শুধু ব্যক্তি সম্পর্ক নষ্ট করে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুস্থ বিকাশের পথও রুদ্ধ করে।

গণতান্ত্রিক সমাজে মতের বৈচিত্র্যই শক্তি। একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকাই স্বাভাবিক। বরং সেই ভিন্ন মতগুলো আলোচনার টেবিলে এলে সিদ্ধান্ত আরও পরিপক্ব হয়। কিন্তু আমরা প্রায়ই যুক্তির বদলে আবেগকে প্রাধান্য দিই। কেউ প্রশ্ন তুললেই তাকে বিরোধী ভাবি, কেউ সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু বানিয়ে ফেলি। এতে সত্য চাপা পড়ে যায়, আর চাটুকারিতা জায়গা দখল করে।

রাজনীতির ময়দান থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন, এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও একই চিত্র। একজন মানুষ একটি সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করলেই তার অতীত অবদান ভুলে যাওয়া হয়। তার সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ সবকিছু এক মুহূর্তে অস্বীকার করা হয়। অথচ মতভেদ মানেই বিদ্বেষ নয়। মতভেদ হতে পারে দায়িত্ববোধ থেকেও, বৃহত্তর স্বার্থের চিন্তা থেকেও।

আমাদের শিখতে হবে, ব্যক্তি ও মতকে আলাদা করে দেখতে। একজন মানুষের একটি মতের সঙ্গে দ্বিমত মানেই সেই মানুষটি খারাপ নয়। আবার নিজের মতই চূড়ান্ত সত্য, এমন অহংকারও পরিহার করতে হবে। ইতিহাস বলে, যে সমাজ প্রশ্নকে দমন করে, সে সমাজ পিছিয়ে পড়ে। আর যে সমাজ ভিন্নমতকে সম্মান দেয়, সে সমাজই এগিয়ে যায়।

ভিন্ন মতকে সহ্য করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই দরকার আত্মসমালোচনা। আমরা কি সত্যিই অন্যের কথা শুনতে প্রস্তুত? নাকি শুধু নিজের কথাই প্রতিষ্ঠা করতে চাই? যদি আলোচনার লক্ষ্য হয় সত্য অনুসন্ধান, তবে তর্ক হবে গঠনমূলক। আর যদি লক্ষ্য হয় জয়-পরাজয়, তবে সম্পর্ক ভেঙে যাবে।

সমাজে সুস্থ পরিবেশ গড়তে হলে আমাদের ভাষা ও আচরণেও সংযম আনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ রাগের মাথায় লেখা একটি বাক্য দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। তাই প্রতিক্রিয়ার আগে ভাবা জরুরি। মনে রাখা দরকার, মতের অমিল সাময়িক, কিন্তু সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী।

শেষ কথা হলো, ভিন্নমত কোনো অপরাধ নয়। বরং সেটিই চিন্তার পরিসর বাড়ায়। আমরা যদি সত্যিই উন্নত ও সচেতন সমাজ চাই, তবে “মতের অমিল মানেই শত্রুতা” এই সংকীর্ণ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও যুক্তিনির্ভর আলোচনাই পারে আমাদেরকে আরও পরিণত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে।

লেখক:মো.ওমর ফারুক একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজসচেতন লেখক। তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক আজকাল
Theme Customized By Shakil IT Park